বেলি ফুল কখন ফোটে – বেলি ফুলের উপকারিতা

বাংলাদেশে জনপ্রিয় ফুলের তালিকায় বেলি ফুল রয়েছে। বেলি ফুল খুবই সুগন্ধিযুক্ত একটি ফুল, তাই সবাই এ ফুলকে পচ্ছন্দ করে। বেলি ফুল শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এই ফুলের বিভিন্ন উপকারিতাও রয়েছে। বেলি ফুলের উপকারিতা সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো। আজকের আর্টিকেলটি পড়লে বেলি ফুলের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে যাবেন।

বেলি ফুল কখন ফোটে

সুগন্ধে অতুলনীয় সাদা রঙের ফুলটি, যার নাম বেলি। বিভিন্ন উৎসবের সময় এ ফুলের ব্যপক কদর রয়েছে। সকল বয়সীরা এ ফুল দিয়ে সেজে নিজেদেরকে আকর্ষনীয় করে তোলে। হাতে, চুলের খোপায় অথবা বেনিতে, কেউবা বেলি ফুল দিয়ে মুকুট বানিয়ে মাথায়, কেউবা ফুলগুলো নিয়ে একটি একটি করে চুলের মধ্যে সাজায়। যেকোনো অনুষ্ঠানে হালকা সাজে বেলি ফুলের ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। বেলি সম্পর্কে এখানেই বলা শেষ নয়, বেলি ফুলের আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে। বেলি ফুলের উপকারিতাগুলো বিস্তারিত জানতে, আমাদের আর্টিকেলটি সম্পূর্ন পড়ে জেনে নিন।

বেলি ফুল কখন ফুটে

বেলি ফুল পচ্ছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বিরল। সুগন্ধি ফুল হওয়ায় প্রত্যেক মানুষ বেলি ফুল পচ্ছন্দ করে থাকে। ফুলের গাছ লাগানোর কথা মাথায় আসলেই বেলি ফুলের নাম চলে আসে। বাড়ির ছাদবাগান বা নিজের বারান্দায় বেলি ফুলের দু একটি গাছ একেবারেই মনোমুগ্ধকর। অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে বেলি ফুল কখন ফুটে। নিচের আলোচনা থেকে জেনে নিন বেলি ফুল কখন ফুটে।

সাধারণত বেলি ফুল গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালে বা ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসে বেশি ফুটে থাকে। বাংলাদেশে এ এ সময় গুলোতে বেলি ফুলের মূল ফুল ফুটে থাকে। তাই এ সময়ে গাছে বেলি ফুল পেতে হলে নির্দিষ্ট সময়ে বেলি ফুলের চারা রোপন করতে হবে। তবে বেলি ফুলের গাছে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে বছরের যেকোনো সময় বা সারাবছর গাছে ফুল ফোটানো সম্ভব। অনেক সময় গাছের প্রজাতির ওপর বেলি ফুল ফোটার সময়সীমা নির্ভর করে থাকে। বেলি ফুলের বেশ কয়েকটি জাত আছে, যেগুলো নির্দিষ্ট সময় ফুটে আবার অনেক জাত আছে যেগুলো সারা বছর ফুল দেয়।

বেলি ফুলের সঠিক পরিচর্যা নিলে সারাবছর গাছে ফুল পাবেন। জৈব পদার্থযুক্ত দোঁয়াশ মাটি বেলি ফুল চাষের জন্য উপযুক্ত। এ মাটিতে বেলি ফুলের চাষ করলে ফলন বেশি পাওয়া যায়। বেলি ফুলের গাছে পরিচর্যা করার প্রধান বিষয় হচ্ছে বেলি ফুলের গাছে সবসময় রস থাকতে হবে। বর্ষাকালে সময়মতো বৃষ্টি না হলে কয়েকবার সেচ দিতে হয়। নিয়মিত আগাছা দমন করে সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। বেলি ফুলের বিশেষ এক পরিচর্যা হলো ডালপালা ছাঁটাই করা। গাছে ফুল দেওয়া শেষ হলে বা ফুল শুকাতে লাগলে সে সময় গাছের অবস্থান বুঝে ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে। তাহলে গাছে আবার নতুন কলি আসবে এবং সবময় ফুল পাওয়া যাবে । এছারাও বেলি ফুলের গাছে বেশ কিছু পোকামাকড় আক্রমন করে সেগুলো-সালট্যাফ, কেলথেন পাতায় ছিটিয়ে দমন করা যায়। সারাবছর বেলি ফুলের গাছে ফলন পেতে গাছের সঠিক যত্ন নিন।

বেলি ফুলের উপকারিতা

বেলি ফুল যেমন সৌন্দর্যের প্রতীক। তেমনি স্বাস্থ রক্ষায় বেলি ফুলের কিছু উপককারি গুন রয়েছে। স্বাস্থ রক্ষায় এ ফুলের ব্যবহার সর্বত্রই দেখতে পাওয়া যায়। বেলি ফুল ছাড়াও এ গাছের পাতা, মূল ভেষজ ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বেলি ফুল বা বেলি ফুলের পাতা ও মূলের উপকারিতাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

কৃমি: পেটের কৃমি দূর করতে বেলি ফুল কার্যকারিতা ভূমিকা রাখে। বেলি ফুলের রস বের করে গরম পানির মধ্যে দিয়ে খেলে পেটের কৃমি দমন হয়।

ত্বকের সমস্যা: ত্বকের সমস্যা দূর করতে বেলি ফুল ব্যবহার করা হয়। বেলি ফুলকে ব্লেন্ড করে ত্বকে লাগালে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়।

শ্বাসকষ্ট রোধ: শ্বাসকষ্ট দূর করতেও বেলি গাছের ভূমিকা রয়েছে। বেলির কচি পাতা ও মূল সিদ্ধ করে খেলে সর্দি এবং শ্বাসকষ্ট রোধ হয়।

ঘুমের সমস্যা: ঘুমের সমস্যা নিয়ে যারা ভুগছেন তারা বেলি গাছের পাতা বেটে পানিতে মিশিয়ে খাবেন। ঘুমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

ক্ষত নিরাময়: ক্ষতস্থানে বেলি গাছের পাতা ব্লেন্ড করে লাগালে ক্ষতাস্থানে কিছুক্ষনের মধ্যে আরাম পাবেন এবং কয়েকদিন লাগালে ক্ষতস্থান সম্পূর্ন ভালো হয়ে যাবে।

প্রসাবের বেগ কমলে: বেলি গাছের পাতা ব্লেন্ড করে পানি দিয়ে সেবন করলে প্রসাবের বেগ আসবে।

বমি ভাব দূর করতে: বেলি গাছের মূল পিসে রস বের করে, সেই রস আতপ চাল ধোয়া পানি ও তার সাথে চিনি একসাথে ভালো করে মিশিয়ে খেলে বমি বমি ভাব দূর হয়।

চুলের যত্ন: চুলের যত্নে বেলি ফুলের তেল ব্যবহার করুন। বেলি ফুল দিয়ে তৈরিকৃত তেল চুলের স্বাস্থের জন্য উপকারি।

বেলি ফুলের উপকারিতা

বেলি ফুলের বিভিন্ন জাত

বাংলাদেশসহ প্রায় বিভিন্ন দেশে বেলি ফুলের চাষ করা হয়। জেসমিন গনের একটি ফুল হলো বেলি ফুল। সুগন্ধি ফুলগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ফুল হলো বেলি ফুল। এ ফুল গাছের বৈশিষ্ট হলো, এ গাছের পাতা একক, ডিম্বাকার, পাতার রঙ গাঢ় সবুজ এবং মসৃন। বেলি ফুলের বীজ হয় তারপরও বেলি ফুল গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম পদ্ধতিতে এ ফুলের বংসবিস্তার করা হয়। বেলি ফুলের বিভিন্ন ঔষধিগুন রয়েছে, সেটা আমরা আগেই অলোচনা করেছি। এছারাও বেলি ফুল চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়া যাবে। বেলি ফুল দিয়ে বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে, তাই বেলি ফুলের চাষ বানিজ্যিক ভিত্তিতে খুবই লাভজনক। বেলি ফুলের কয়েকটি জাত রয়েছে, চলুন সেগুলো জেনে নিন।

বেলি ফুলের চারটি জাত রয়েছে। যথা:

খয়েবেলী- এ জাতটির গাছের ফুলগুলো তীব্র সুগন্ধ এবং ফুলগুলো আকারে ছোট হয়।

রাইবেলী- এ জাতের গাছের পাপড়ি সুসজ্জিত, ফুল খুব ছোট এবং ফুলগুলো তীব্রগন্ধযুক্ত।

ভরিয়াচেলি- ভরিয়াচেলি জাতের বেলিফুলগুলো আকারে বেশ বড় হয় এবং সুগন্ধিযুক্ত। এ জাতটিকে রাজবেলীও বলা হয়ে থাকে।

মতিয়া- মতিয়া জাতের বেলীফুলগুলো আকারে বড়, পাপড়ি অসংখ্যা এবং সুগন্ধযুক্ত।

এ জাতের সবগুলো ফুলের রং সাদা হয়ে থাকে। ফুলগুলো সবগুলোই সুন্দর এবং মনোমুগ্ধকর। এ সবগুলো জাত আপনি বাড়ির বাগান অথবা টবে চাষ করতে পারেন। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ভালো মানের ফুল পাবেন এবং ফলন বেশি হবে।

বেলি ফুলের মালা

প্রাচীনকাল থেকে বেলি ফুলের কদর হয়ে আসছে। বেলি ফুল ভেষজ ওষধে, তেল তৈরিতে অথবা বেলি ফুলের মালা তৈরি করে ব্যবহার করা হচ্ছে। বেলি ফুলের মালা বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে প্রাচীনকাল থেকে প্রচলন হয়ে আসছে। বসন্তে মেয়েরা বেলি ফুল দিয়ে, ফুলের মতোই তাদের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে। বর্তমানের মেয়েরাও হালকা সাজে বেলি ফুলের মালা ব্যবহার করে থাকে। হাতে অথবা চুলের খোপায়, বেলি ফুলের মালা গলায়, কানের দুল, ফুলের গয়না করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা বসন্তে কলেজের আড্ডায় মেয়েরা নিজেদেরকে সাজিয়ে তোলে। বেলি ফুলের মালা বাজারের দোকানগুলোতে গেলেই পেয়ে যাবেন। এছারাও বেলি ফুল দিয়ে বাড়িতে আপনি নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন বেলি ফুলের মালা। এজন্য আপনাকে বেলি ফুল, সুই এবং সুতো নিতে হবে। এগুলোর সাহাজ্যে বাড়িতে সহজেই আপনিও বানিয়ে নিতে পারবেন বেলী ফুলের মালা।

এছারাও বর্তমানে বিভিন্ন জেলার চাষীরা বেলি ফুলের চাষ করে থাকছে। সেই ফুল দিয়ে তারা মালা তৈরি কওে বাজারে বিক্রি করে সাবলম্বী হয়েছেন। চাষীরা সেখানকার নারীদের কাছ থেকে ফুলের মালা বানিয়ে নেয় এবং এতে তাদের পারশ্রমিক দিয়ে দেয়। ঘরের কাজ সামলীয়ে বেলি ফুলের মালা গেঁথে অর্থ উপার্জন করে থাকছে সে জেলার নারীরা।

বেলি ফুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়। এ ফুল বিভিন্ন উপকার করে থাকে এছারাও এ ফুল চাষ করে অর্থ উপার্জন করে, বেকার সমস্যার সমাধান হচ্ছে। তাই আপনি এসব উপকার পেতে বাড়িতে বেলী ফুলের চাষ করুন অথবা বেকার না থেকে জমিতে এ ফুলের চাষ শুরু করুন।

লেখকের শেষ বক্তব্য

বেলি ফুল কখন ফোটে – বেলি ফুলের উপকারিতা সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি বেলি ফুল কখন ফোটে – বেলি ফুলের উপকারিতা সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

আরও জানুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *